সোজা একটা ইটের রাস্তা। রাস্তার দুই ধারে ঝোপের মত কিছু গাছ। একটা সাজানো গোছানো বাগান। রাস্তাটা ধরে সোজা এগিয়ে গেলেই রাস্তাটা দুই মুখ নেয়। এক দিকে রাস্তাটা কিছু সেগুন গাছের ছায়ার মাঝে অন্ধাকারে মিলেয়ে গেছে। আরেকদিকে রাস্তাটা মিশে গেছে বটতলার মোড়ের দিকে। হল থেকে বের হয়ে এখানে দাঁড়িয়ে বটতলার দিকে তাকালে মনে হয় নিভু নিভু কয়েকটা আলো জ্বলছে। জায়গাটা অনেক চেনা, এই গত কয়েক বছরে কিছুই বদলায়নি তেমন। পুকুরটা ঠিক তেমনই আছে, পাড়টা বাধানো হয়েছে, পুকুরের পানি আরো পরিস্কার হয়েছে। পুকুরের সাথেই দাঁড়িয়ে আছে একটা ভাঙ্গাচোরা পোড়া কুড়েঘড়ের মত ছাউনিহীন একটা ঘড়। পুকুরে ইদানীং দেখি মাছ আছে কিছু, লাফালাফি করে, ছপ ছপ করে পানিতে একটু পরপর আওয়াজ হয়। মোঘল স্থাপনাগুলোর মত হলটা গম্ভীর ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ছায়াটাও খুব চেনা ভাবেই পুকুরটার উপর পরছে। আজ চাঁদটা দেখা যাচ্ছে না, থাকলে এই পুকুর ঘাটে বসে পানিতে চাঁদটা দেখা যেত বেশ কিছুখন। কোকিল পাখির মত দুইটা পাখি এই রাতের বেলা ডাকতেছে, খুব সম্ভবত সংগমের জন্য। একজনের ডাকা শেষ হলেই আরেকজন “কুউউউ” করে জবাব দিতেছে। পাখি দুইটা বেশ দূরে দূরে, কিন্তু ওরা নিল্লজের মত ডাকছে তো ডাকছেই।

ব্যাংগুলি এখনো ডাকাডাকি শুরু করেনি। বর্ষা এলো এলো ভাব। এইত সেদিন বসন্তের শুরুর দিকে বাংলাদেশের খেলার দিন ব্যাস্ত একটা ঝড় এসে ক্যাম্পাস্টা কেমন যেন এলোমেলো আর অলস করে দিল, ইলেক্ট্রিসিটি চলে গিয়ে পরিবেশটার মাঝে আরও আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আসলো। সবই খুবই মুখস্থ ব্যাপারস্যাপার, মেঘ ডাকবে বৃষ্টি আসবে, আকাশটা কালো হয়ে বিদ্যুৎ চমকাবে। কেউ কেউ হলের দিকে ফিরবে, কেউ কেউ টিনের চালের নিচে বৃষ্টিবন্দী হয়ে কয়েক কাপ র’চা খাবে। কিছু ভেজা প্রেমিক প্রেমিকা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মেয়েটার হলের দিকে আগাবে। কেউ কেউ বৃষ্টির জন্য টিউশনীটা মিস যাবে এই ভেবে মন খারাপ করে বসবে। মশাগুলি কানের সামনে এসে বনবন করবে, রাত বাড়বে, আরও বাড়বে তারপর আবার সকাল হবে। সকাল হলেই নতুন একটা ব্যাচ আসবে, থাকবে, যাবে। ক্যাম্পাসের বাচ্চাটা বইসা বইসা সব দেখবে, কিচ্ছু বলবে না, বইসা বইসা সব দেখবে। যাইহোক নতুন ব্যাচকে শুভকামনা।

Leave a Reply