কূপমণ্ডূকের দিনলিপি ২ – তাজিম খান

করোনার দিন শেষ হবে একদিন।

মেট্রোপলিটনের এই বিষাক্ত বাতাস ছেড়ে আমি গাবতলি পাড় করে জাহাঙ্গীরনগর আসবো। শহরের নিখাদ জ্যাম শেষে গাবতলি ব্রিজের আগে বাজে গন্ধটা আমার কাছে পরিচিত মনে হবে, স্বস্তি লাগবে।

তখন হয়তো শীতকাল! ঢাকায় যখন আমার গায়ে জ্যাকেট দেখে যেসব মানুষ ভুরু কুঁচকে তাকাচ্ছিলো তাদের কথা ভেবে আমি একটা হাসি দিবো! সাভার পেরুলেই তীব্র শীতে আমি গায়ের জামাটা চেপে বসবো, ব্যাগ থেকে বের করবো মাফলার। টারজানে তানীম-ফারুক-মেহের ভাই জুসের বদলে তখন চা বিক্রি করবে। হাটার শুরুতেই কোন পরিচিত রিকশাওয়ালা আমাকে দেখেই রিকশা থামিয়ে দিবে, তার সাথে কথা বলতে বলতে মুখ থেকে বের হতে থাকবে ধোঁয়া। আমি ভাববো শীতের মতো যদি সবসময়ই এরকম মুখ থেকে ধোঁয়া বের হতো?

গোধুলিতে হাটতে বের হবো, সন্ধ্যা টপটপিয়ে নামতে থাকবে। কিংবা ভোরবেলা যেখানে ৪’হাত সামনে কিছু দেখা যায় না কুয়াশায়, সেখানে আমরা কর্মচারী ক্যান্টিনে নাস্তা করতে যাবো। শিশিরে ভিজে, কুয়াশা ছিড়ে ছিড়ে আমরা সামনে এগুবো। সিদ্ধান্ত পাল্টে আমরা যাবো গেরুয়ায়, মংগল সুইটমিটে দইচিড়া খেতে। যাবার পথে আমরা ভুলে যাবো যে রবীন্দ্রনাথ হল আছে। রফিক-জব্বার হল দেখে আমরা হাসবো, সালার একদিকে তিনতলা, আরেকদিকে পাচতলা! আমরা ঝালফ্রাই অর্ডার দিবো, পরোটার জন্য তীর্থের কাকের মতো বসে থাকব। তিনজন গেলে আমরা দুটা ডাল নিবো, আর বার বার গেটিস চাবো! দুপুরে খালার দোকানে ভাত খাবো, দেড়-ভাত আর হেলিকপ্টার!

সন্ধ্যায় শীতের রাতে কেউকেউ পাতা আর লাকড়ি দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে, আগুন ঘিরে গান গাবে। গানের সাথে বাড়তে থাকবে হাজার বছরের পুরোনো সেই রাত। হঠাৎ বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব হবে। ঝরের দাপটে চলে যাবে ইলেক্ট্রিসিটি। এর মাঝে বাজখাঁই গলায় কেউকেউ বলবে “অই কামাল!”

– কূপমন্ডুকের দিনলিপি ২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *