পৃথিবী তুমি সুস্থ হলে আমি জাহাঙ্গীরনগর যাবো! ক্যাম্পাসের বাসের সবার সামনের সিটে পায়ের উপর পা তুলে এম.এইচ গেইট দিয়ে ঢুকবো! বাসের গায়ে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিবে অসংখ্য গাছ! নয়তো কোন শুভযাত্রা বা ওয়েলকাম বাসেই আসলাম। ডেইরী নামবো না প্রান্তিক, ট্রান্সপোর্ট নামবো না কবির স্বরণী তা নিয়ে একটু কনফিউজড হবো।

সকালে নাস্তা খাবো ক্যাফেটেরিয়ায়। কতগুলো শক্ত লুচি আর একটু ডাল ভাজি। তারপর আরেকটা কুপন নিয়ে একটা রঙ চা নিয়ে বের হয়ে ঠোটে সিগারেট দিয়ে জারুল গাছের ছায়ায় বসে আয়েস করে মুক্তমঞ্চ দেখবো! তখন একটা ফেসবুক নোটিফিকেশন আসবে, আজ কোন ক্লাস নেই। একলাইনের এর চেয়ে সুন্দর বাক্য কী এই সাতশো একরে আছে?

দুপুরটা হবে অলস। কাক ডাকা শান্ত সুন্দর অলস। আমরা কূপমণ্ডূকরা বসন্তের ঘ্রাণে, সালাম-বরকত হলের সামনে বসে ভাজা মাছ আর ভর্তা দিয়ে শুকনো মরিচ ডলে ভাত খাবো। প্লেট আগ বাড়িয়ে মনে পরবে আলম ভাই আর বেচে নেই। তবুও আমরা দেড়-ভাত খাবো, আরেকবার গেটিস নিবো! টুংটাং শব্দ করে ইজেল আর ক্যানভাস নিয়ে রিকশায় করে চলে যাবে একজোড়া সদ্য-সিনিয়র।

দুপুর বুড়ো হতে থাকবে। আকাশ মেঘলা হবে, রোদ-বিকেলে আমরা আসবো সুপারিতলায়। ঘেমে জবজব শরীর নিয়ে ফুটবল খেলবো! নাহয় নিরুদ্দেশ হেটে বেড়াবো। সিগারেট দেখলেই বলবো ফার্স্ট কল। বা উচু বটতলায় নির্বাক বসে থাকবো। স্যান্ডির দোকান থেকে ভেসে আসবে গান। সিংগাড়া, জিলাপি ভাজতে থাকবে হাবীব ভাই। কেউ বলে উঠবে চিনি বেশী দিয়ে একটা চা দেন। এর মাঝে আমি স্যান্ডো গেঞ্জি পরা নানা কে দেখবো না। হাসু ভাই অযথাই চেচামেচি করতে থাকবে, কেউ চোখের ইশারায় আমাদের পাম্পে যেতে বলবে। আমরা জড়ো হবো। আমার জমায়েত হবার কথা ছিলো ৪ কিংবা ৫ জন। কোথাথেকে যেনো চলে আসবে আরো ৫ কিংবা ৬। আমরা একে অপরকে জিজ্ঞেস করবো “খাইছো?”

– পাঠকের পছন্দ হলে চলবে!

Leave a Reply